1. online@aporadhchitro.news : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. news@aporadhchitro.news : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার বিচারের দাবিতে নেত্রকোনায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের মানববন্ধন শিবগঞ্জে ৫ কেজি ৮৫০ গ্রাম হেরোইনসহ বৃদ্ধ গ্রেপ্তার, মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা ভোলাহাট কলেজে টানা ৩ বছর পাসের হার শূন্য, শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন.? জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের অবদান চীর অম্লান — সারোয়ার ওয়াদুদ চৌধুরী। বিসিআইসির শরীফুল আলমকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ, অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র.? গাজীপুরে পিবিআইয়ের এস আই আলতাফের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ টঙ্গীতে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান, কেমিক্যালসহ গ্রেপ্তার ১ ১০ টাকার চিতই পিঠায় মাতোয়ারা গাইবান্ধা, ভর্তার স্বাদে জমজমাট আড্ডা! গাইবান্ধায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ‘কুইক রেসপন্স টিম’: পিবিআইয়ের সাথে পুলিশ সুপারের মত বিনিময় ৪৯ বছরের শাক বিক্রির জীবন, আজ রাস্তার পাশে ক্রেতার অপেক্ষায় অসহায় বিক্রেতা

শত শত নিউজ করেও কিছু করতে পারবেন না’-কিসের জোরে এমন বক্তব্য পিআইও রিয়াজুলের?

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৫ বার

 

সরকারি প্রকল্পে ‘৫০% কমিশন’ অভিযোগের- পঞ্চম পর্ব

চার পর্বের সংবাদ প্রকাশ, জেলা প্রশাসকের তদন্তের আশ্বাস- তবুও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই; প্রশ্ন, তবে কি অভিযোগ তদন্তের আগেই প্রভাবশালীদের কাছে অসহায় প্রশাসন?

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা:

‘নিউজ করে কোনো লাভ নেই, এরকম শত শত নিউজ করেও আমার কিছু করতে পারবেন না’—গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ, কথিত কমিশন-বাণিজ্য ও অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশের পরও যদি কোনো কর্মকর্তা এমন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাহলে তাঁর এই আত্মবিশ্বাসের উৎস কী?

তাঁর পেছনে কি এমন কোনো প্রভাবশালী মহল রয়েছে, যার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তিনি অভিযোগের মুখেও নিশ্চিন্ত? নাকি তদন্ত ও জবাবদিহির কার্যকর উদ্যোগের অভাব থেকেই এমন বক্তব্য দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন তিনি? এসব প্রশ্নের উত্তর অনুমান দিয়ে নয়, নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

জাতীয় সাপ্তাহিক তদন্ত রিপোর্টে গাইবান্ধা সদর পিআইও কার্যালয়কে ঘিরে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং কথিত ‘৫০ শতাংশ কমিশন’-এর অভিযোগ নিয়ে ইতোমধ্যে ধারাবাহিকভাবে চারটি পর্ব প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দের তুলনায় কম অর্থ পাওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় সেগুলো যাচাই করার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

চার পর্বের সংবাদেও ব্যবস্থা নেই, তবে কি জবাবদিহির ঊর্ধ্বে পিআইও?

একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো অভিযোগগুলো যাচাই করা, প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু অভিযোগ প্রকাশের পরও দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য সামনে না আসায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করে বিষয়টি তাঁর নজরে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবেদক। জেলা প্রশাসক তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদকের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের দৃশ্যমান অগ্রগতি জানা যায়নি।

প্রশ্ন হচ্ছে, তদন্তের আশ্বাস বাস্তবে কত দূর এগিয়েছে? কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি? হয়ে থাকলে কমিটির সদস্য কারা, কোন কোন প্রকল্পের নথি যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা কী?

এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না থাকলে প্রশাসনের আশ্বাস আর বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে ব্যবধান থেকেই যাবে।

‘আমার কিছুই করতে পারবেন না’—এই আত্মবিশ্বাসের উৎস কোথায়?

রিয়াজুল ইসলামের এমন বক্তব্য শুধু সংবাদমাধ্যমকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার বিষয় নয়; বরং সরকারি দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার জবাবদিহি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয় না—এটি যেমন সত্য, তেমনি সংবাদে উত্থাপিত তথ্য ও অভিযোগ যাচাই না করেই তা উপেক্ষা করাও দায়িত্বশীল প্রশাসনের কাজ হতে পারে না।

তাহলে একজন কর্মকর্তা কেন মনে করবেন, শত শত সংবাদ প্রকাশ হলেও তাঁর কিছুই হবে না? তিনি কি তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে নিশ্চিত, নাকি তাঁর ধারণা—অভিযোগ যতই উঠুক, কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?

এখানে ‘অদৃশ্য ক্ষমতা’ বা প্রভাবশালী আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা মহলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা সমীচীন নয়। বরং তাঁর কথিত বক্তব্যের উৎস, অভিযোগগুলোর প্রশাসনিক নিষ্পত্তি এবং তদন্তে বিলম্বের কারণ খতিয়ে দেখলেই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

‘৫০ শতাংশ কমিশন’ অভিযোগের হিসাব কোথায়?

টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের অর্থ সরকারি বরাদ্দ। এসব অর্থের উদ্দেশ্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনকল্যাণমূলক কাজ বাস্তবায়ন। ফলে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দের তুলনায় কম অর্থ পাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার নিষ্পত্তি করতে হলে প্রকল্পভিত্তিক হিসাব প্রকাশ করা প্রয়োজন। কোন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, বাস্তবে কত টাকার কাজ হয়েছে এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কত অর্থ পেয়েছেন—এসব তথ্য পাশাপাশি রাখলেই অসংগতি চিহ্নিত করা সম্ভব।

বিশেষ করে কথিত ‘৫০ শতাংশ কমিশন’-এর অভিযোগ যাচাই করতে ব্যাংক হিসাব, চেক, অর্থ উত্তোলনের রেকর্ড, বিল-ভাউচার, প্রকল্প কমিটির নথি, কাজের পরিমাপ এবং উপকারভোগীদের বক্তব্য পরীক্ষা করা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে অর্থের প্রবাহ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে; আর অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে নথিভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমেই তা পরিষ্কার করা সম্ভব।

শুধু মৌখিক বক্তব্য কিংবা পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এ ধরনের গুরুতর প্রশ্নের নিষ্পত্তি হতে পারে না।

জেলা প্রশাসকের কাছে এখন সরাসরি প্রশ্ন

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে এখন কয়েকটি প্রশ্নের জবাব প্রত্যাশিত—

১. পিআইও রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি?

২. তদন্ত শুরু হয়ে থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তা বা কমিটি কারা এবং এখন পর্যন্ত কী অগ্রগতি হয়েছে?

৩. টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ, অর্থ উত্তোলন ও বাস্তবায়ন যাচাইয়ে প্রকল্পভিত্তিক নিরীক্ষা বা সরেজমিন পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি?

৪. সংবাদ প্রকাশের পরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের ব্যাখ্যা কী?

৫. তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ করা হলে একদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পথ সুগম হবে, অন্যদিকে প্রশাসনের স্বচ্ছতা সম্পর্কেও জনমনে আস্থা তৈরি হতে পারে।

বক্তব্য ও নথি যাচাই করুক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ

রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতিদের ব্যাখ্যা এবং জেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান—সবই তদন্তের অংশ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তাঁর কথিত ‘শত শত নিউজ করেও কিছু করতে পারবেন না’ বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করে বক্তব্যটি কোন প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে। এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি হিসেবে দেখা প্রয়োজন।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: সংবাদ প্রকাশের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটি কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভর করতে পারে না। তা নির্ভর করবে আইন, সরকারি বিধিবিধান, প্রমাণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির ওপর।

এখন দেখার বিষয়, গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন অভিযোগগুলোর বিষয়ে দৃশ্যমান তদন্ত শুরু করে কি না, নাকি তদন্তের আশ্বাসেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকে।

পিআইও রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই, কথিত বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নির্ধারণ এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি এখন আরও জোরালো হচ্ছে।

চলবে—অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ষষ্ঠ পর্বে থাকবে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ, অর্থ উত্তোলন, বাস্তবায়ন ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের বিস্তারিত তথ্য।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬