
পীরগঞ্জ-ঘোড়াঘাট সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার অভিযোগ, যৌথ অভিযানের দাবি এলাকাবাসীর
ঘোড়াঘাট-পীরগঞ্জ প্রতিনিধি:
রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী করতোয়া নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসার অভিযোগ উঠেছে। কখনো দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, কখনো রংপুরের পীরগঞ্জ—এভাবে প্রশাসনিক সীমানা পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো এলাকায় অভিযান চালাতে গেলে জুয়ার সঙ্গে জড়িতরা দ্রুত নদী পেরিয়ে অন্য জেলার সীমানায় চলে যায়। ফলে একদিকে অভিযান হয়, অন্যদিকে আবার জুয়ার আসর বসে। এতে মূল হোতারা বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ ও পীরগঞ্জ থানার সীমান্তবর্তী করতোয়া নদীর চরাঞ্চলে জুয়ার আসর চলার অভিযোগ উঠে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিন থানার আলাদা আলাদা অভিযান জুয়ার চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ফল দিচ্ছে না। এ কারণে তিন থানার সমন্বয়ে একযোগে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
‘এলাকা কার’—এই প্রশ্নেই কি থেমে থাকবে অভিযান?
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একটি জায়গা রংপুর জেলার হোক কিংবা দিনাজপুর জেলার—সেটি তো বাংলাদেশেরই ভূখণ্ড। তাহলে প্রশাসনিক সীমানার জটিলতার কারণে সেখানে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর চলার সুযোগ কেন থাকবে?
তাদের অভিযোগ, এক পক্ষ বলছে ঘটনাস্থল দিনাজপুরের আওতাধীন, আবার অন্য পক্ষ বলছে সেটি রংপুরের সীমানার মধ্যে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছে জুয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্র।
ঘোড়াঘাট থানার পক্ষ থেকেও অতীতে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী দুর্গম চর হওয়ায় অভিযানের সময় জুয়াড়িরা অন্য থানার এলাকায় পালিয়ে যায়। পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট থানার যৌথ অভিযানের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
জুয়ার বিরুদ্ধে নতুন আইন, তারপরও কেন এমন পরিস্থিতি?
২০২৬ সালে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে জুয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এরপরও যদি কোনো দুর্গম চরাঞ্চলে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—আইনের প্রয়োগে ঘাটতি কোথায়?
স্থানীয়দের দাবি, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন জুয়াড়িকে আটক করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। জুয়ার আসরের আয়োজক, অর্থের জোগানদাতা ও মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি চরাঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি ও যৌথ অভিযান চালাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ
এলাকার সচেতন নাগরিকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, রংপুর ও দিনাজপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট তিন থানার মধ্যে সমন্বয় করে অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
একই সঙ্গে জুয়ার আসরের প্রকৃত অবস্থান প্রশাসনিকভাবে নির্ধারণ করে সেখানে স্থায়ী নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষায়, “এটি রংপুরের হোক বা দিনাজপুরের—বাংলাদেশের মাটিতে জুয়ার আসর চলতে পারে না। সীমানার অজুহাত নয়, অপরাধ বন্ধ করাই হোক প্রশাসনের মূল দায়িত্ব।”
সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জুয়ার আসর সম্পূর্ণ বন্ধ করবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply